1. hasanchy52@gmail.com : admin :
  2. amarnews16@gmail.com : Akram Hossain : Akram Hossain
শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গণ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অমান্য

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে ভুমি অধিগ্রহণের খবরে রাতের আধারে পাকা স্থাপনা তৈরি করছেন জমির মালিক, সহযোগিতা করছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও কাউন্সিলর তসলিম মিয়া

পিজিসিবি’র পিজিএনএস প্রকল্পের আওতায় নির্মানাধীন  ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার নির্মানে ভুমি অধিগ্রহনের খবরে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ লুটে নিতে মানিকগঞ্জে রাতের আধারে পাকা স্থাপনা তৈরি করছেন অসাধু এক জমির মালিক। অভিযোগ রয়েছে জেলা প্রশাসনের গণ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা নিদিষ্ট সময়ে গ্রহন না করে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও স্থানীয় কাউন্সিলর তসলিম মিয়াকে ম্যানেজ করে লিখিত অনুমতি ছাড়া নাল জমিতে রাতের আধারে মাটি ফেলে ঘর নির্মানের পক্রিয়া করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জমির চারদিক বাউন্ডারি নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। বিষয়টি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও স্থানীয় কাউন্সিলর তসলিম মিয়াকে একাদিকবার ফোন করে জানালেও তারা দায়সারা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। 

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের প্রায় ১২টি টাওয়ার মানিকগঞ্জ সদর থেকে আরিচা পর্যন্ত বিভিন্ন মৌজায় সরকারী ভাবে জমি অধিগ্রহনের মাধ্যমে নির্মান করা হবে। ইতিমধ্যে  জাগির ইউনিয়নের জয়রা মৌজা, দিঘি ইউনিয়নের দিঘি, রঘুনাথবাড়ী ও মূলজান ও বাগজান মৌজা সহ ঘিওর এবং শিবালয় উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। একটি টাওয়ার মানিকগঞ্জ পৌরসভার অর্ন্তগত নওখন্ডা মৌজায় নির্মানের জন্য  প্রাথমিক ভাবে জমি নির্ধারন হওয়ায়  গত বছরের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি এলাকার সকল জমির মালিকদের স্ব-শরিলে গিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া গণবিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার,প্রকল্প পরিচালক পিজিএনএস প্রকল্প, পিজিসিবি ঢাকা,পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ, মেয়র, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ, উপজেলা চেয়ারম্যান,সদর,ঘিওর ও শিবালয়,মানিকগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,সদর, ঘিওর ও শিবালয়,মানিকগঞ্জ,সরকারী কমিশনার,আইসিটি শাখা,জেলা প্রশাসক কার্যালয়,মানিকগঞ্জ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,সদর,ঘিওর ও শিবালয় থানা,মানিকগঞ্জ। কিন্তু জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো গণবিজ্ঞপ্তিতে জমির মৌজা ভুলক্রমে নওখন্ডা উল্লেখ না থেকে নারাঙ্গাই মৌজা উল্লেখ থাকায় অধিগ্রহন হতে পারে এমন ২২ শতাংশ জমি, যার খতিয়ান নম্বর ১৫৯২, এস এ দাগ নম্বর ৩৯২, আরএস দাগ নম্বর ৮৭১ নাল জমিতে রাতের আধারে মাটি ফেলে ভরাট করে পাঁকা স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। জমির মূল মালিক গাজী আতিকুর রহমান এবং তার ভাই মো. শাজাহান গাজী প্রবাসে থাকায় জমির দুই মালিকের একজন আতিকুর রহমানের শশুর জাহিদুল করিম ভুমি অধিগ্রহন বাবদ সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিতে তার নিকট আত্মীয় মানিকগঞ্জ পৌ্রসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিলর তসলিম মিয়াকে ম্যানেজ করে পৌরসভা থেকে লিখিত অনুমতি না নিয়ে গত প্রায় তিনমাস ধরে কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়রা অনেকবার নিষেধ করলেও তা না মেনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন বলছেন, প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় পাওয়ার গ্রিড অফিস থেকে কর্মকর্তারা জমি পরিদর্শনে এসে দেখেন টাওয়ার নির্মানের জন্য প্রাথমিক ভাবে নির্ধারন করা জমিতে বিশাল বাউন্ডারি করার পক্রিয়া করছেন জমির মালিক আতিকুর রহমানের শশুর জাহিদুল করিম। এ সময় সরকারী কর্মকর্তারা তাদের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু জমির মালিক গনবিজ্ঞপ্তিতে মৌজা উল্লেখ না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে পারবেন না বলে তাদের জানিয়ে দেন। এরপর পাওয়ার গ্রিডের লোকজন তাদের কিছু না বলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

জমিতে কাজ করা সাব ঠিকাদার কামাল হোসেন বলেন, জমির মালিক জাহিদুল করিম আমাকে কন্ট্রাক দিয়েছেন যতদ্রূত সম্ভব জমির চারপাশে বাউন্ডারীর কাজ করতে হবে। সেই হিসেবে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এখানে কি হবে তা আমার জানা নেই।   তবে আমার ৮০ পার্সেন্ট বাউন্ডারীর কাজ শেষ হয়েছে। তার ধারনা মাটি ছাড়া শুধু মাত্র বাউন্ডারীর কাজ করতে জমির মালিকের প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। 

ভুমি অধিগ্রহনের জন্য সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্ত হাতিয়ে নিতে কাজ করার অভিযোগ অস্বিকার করে জাহিদুল করিম বলেন, আমি নিজের জমিতে কাজ করাচ্ছি। এখানে কোন পাওয়ার  গ্রিডের টাউয়ার হবে কিনা জানা নেই। 

তিনি বলেন, কিছুদিন হলো আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি গণবিজ্ঞপ্তির কপি হাতে  পেয়েছি। কিন্তু ওখানে আমার জমির মৌজা,দাগ,এসএ ও আরএস উল্লেখ না থাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বাউন্ডারীর বিষয়ে পৌরসভাকে অবগত করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আমার সিকট আত্মীয় হয়। এ কারনে জানানো হয়নি। তবে আমি যখন গোডাউনের কাজ করবো তখন পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করবো।    

মানিকগঞ্জ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তসলিম মিয়া বলেন,স্থানীয় সরকারের গ্রেজেট অনুযায়ী পৌরসভার ভেতর কোন বাউন্ডারী সহ যে কোন পাকা স্থাপনা নির্মান করতে গেলে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু জমির মালিক জাহিদুল করিম পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে কাজ করায় এক ঘন্টার মধ্যে তা বন্ধ করার কথা জানান। পরে সেই কাজ বন্ধ না হওয়ায় তাকে (তসলিম মিয়া) ফোন দিলে তিনি নরম কন্ঠে বলেণ, মিয়া ভাই আমার ওয়ার্ডে হলেও যিনি কাজ করছেন তিনি আমাদের পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট আত্মীয় হন, আপনি তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তসলিম মিয়াকে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিব করেনি।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক থেকে গনবিজ্ঞপ্তির কপি দেওয়া হয়েছে তাতে জমির মৌজা এবং দাগ কোনটা উল্লেখ নেই। সেই হিসেবে তার (জাহিদুল করিমের কাজ করতে বাঁধা নেই। স্থানীয় সরকারের গ্রেজেট অনুযায়ী পৌরসভার ভেতর কোন বাউন্ডারী সহ যে কোন পাকা স্থাপনা নির্মান করতে গেলে পৌরসভার লিখিত অনুমতি নিতে হয়। যিনি কাজ করছেন তিনি আপনার নিকট আত্মীয় হওয়ায় পৌরসভা থেকে অনুমতি না নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ  না থাকলে অনেক সময় অনুমতি না নিলেও চলে। জেলা প্রশাসক থেকে পাঠানো গনবিজ্ঞপ্তির কপি পৌরসভা বরাবর পাঠানো হয়েছে তা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক থেকে পাঠানো গনবিজ্ঞপ্তির কোন কপি হাতে পাইনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন ঢালী বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই, কারন আমি যোগদানের  পুর্বে চিঠিটি অফিসে এসেছে। তবে যে চিঠি দেখলাম তা একটি গণবিজ্ঞপ্তি যা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছে,তাতে ভুল ক্রমে নওখন্ডার স্থলে নারাঙ্গাই মৌজা লেখা রয়েছে। 

তিনি বলেন,বিষয়টি আমি জানলাম,এটা নিয়ে জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার স্যারের সঙ্গে কথা বলবো। যদি এটা সত্যিকার অথৈ এটা ভুল হয়ে থাকে তবে তা দ্রূত  সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে স্যারকে অবগত করবো। তবে সরকারী গণবিজ্ঞপ্তিকে কাজে লাগিয়ে যদি কোন মালিক সরকারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে চান তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2014 Amar News
Site Customized By Hasan Chowdhury