1. hasanchy52@gmail.com : admin :
  2. amarnews16@gmail.com : Akram Hossain : Akram Hossain
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১২:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

নতুন সরকারের যত চ্যালেঞ্জ

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ১২৫০ বার দেখা হয়েছে

ফুলকি ডেস্ক  : আগামী ৭ জানুয়ারি সোমবার বিকালে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলটির কাছে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক। চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিতে সরকার আন্তরিক হবে, এমনটাই আশা বিশ্লেষকদের।

জনকল্যাণমূলক একটি রাষ্ট্র গঠনে সরকারের সামনে যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোও ওঠে এসেছে তাদের বিশ্লেষণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, বিপুল বিজয়ের একটা বিপদ হলো, ক্ষমতাসীন দল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে ভুলে যায় অনেক সময়। এটা প্রত্যাশিত নয় আওয়ামী লীগের কাছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কথাটিকে এবার ‘মিন করা’ হবে এটাই আমরা চাই। সরকারি দল চাইলে এবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি দল ও সরকারের মধ্যে এক ধরনের শুদ্ধি অভিযান দেখতে পেলে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সরকারের উচিত হবে ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্রের কাঠামোটা আস্তে আস্তে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করা। কারণ দুর্নীতির দায় পড়ে রাজনীতিবিদদের ঘাড়ে; কিন্তু এটি একটি কাঠামোগত বিষয়। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাও দুর্নীতির বাইরে নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হয়েছে। আমি চাই, এটা যেন তারা সূচারুরূপে সম্পন্ন করে। পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিতের জন্য কাজ করতে হবে সরকারকে। গত ১০ বছর ধরে একই দলের, একই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলেছে সরকার। ছোটখাটো ভুলত্রুটি সংশোধন করে যাতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারে, সে সুযোগই জাতি ভোটের মাধ্যমে তাদের দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, নতুন সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ সরকারি দলের নেতাকর্মীদের আচরণে লাগাম টানা, শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, মেগা প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করা, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি, ক্রসফায়ার ও বিভিন্ন মামলায় সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও প্রায় প্রতিনিয়ত পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করছেন অনেকেই। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা, সুশাসন নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনী আরও জনবান্ধব হবে। শুধু সেøাগানেই নয়, আক্ষরিক অর্থেই ‘জনগণের বন্ধু’ হিসেবে পুলিশকে দেখতে চায় দেশের মানুষ। ইতোমধ্যে পুলিশের নামে বিভিন্ন অভিযোগের সুরাহায় পুলিশ সদর দপ্তরে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশের যে কোনো পর্যায়ের সদস্যের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এখন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকদের মতে, কোনো দল যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখন সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা দেখা দেয় তা হলো-ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ। নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে উৎসাহিত করা। নির্বাচনের পর পরই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একটি ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের এ অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তাকে আটক করা হয়েছে। সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহ নিয়েছেন।

আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে শেয়ারবাজারে ধস এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এর পরও দেশের প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও আর্থিক খাত নিয়ে জনগণের আস্থা কমতে শুরু করে। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও ব্যাংকগুলো থেকে নগদ টাকা ওঠানোর হিড়িক পড়ে যায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ নেবে বলে সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে।

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন করাটাও সরকারের জন্য একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেল সংযোগ, পায়রা বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজার দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পসহ মেগাপ্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন দেখতে চায় দেশবাসী। সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় ১ হাজার ৬২ একর জমির ওপর এখন চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল গত বছর। আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরি থেকে সব ধরনের কোটা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা বাতিলের ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হতে পারে। এ জন্য অনগ্রসর গোষ্ঠীর কারো সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক নীতিমালা করা হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বিষয়ে একটা স্থায়ী সমাধান চায়। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়েও তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে ইতিবাচক বলে জানা গেছে।

গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আরেকটি বড় আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয় সরকারকে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংসদে পাস হয় নিরাপদ সড়ক আইন। এখন আবার পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে বাসচাপায় দুজন নারী পোশাককর্মী মারা গেছেন। এর পর আন্দোলনে নামেন সেখানকার পোশাককল শ্রমিকরা। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি দাবিগুলো সময় নিয়ে একে একে বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুন সরকারের জন্য মোটাদাগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি দমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সব খাতে দুর্নীতি কমানোই হবে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সফল হওয়ার পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের প্রথম সভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2014 Amar News
Site Customized By Hasan Chowdhury