1. hasanchy52@gmail.com : admin :
  2. amarnews16@gmail.com : Akram Hossain : Akram Hossain
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

ধামরাইয়ে অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি, আটক ১

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৪৩১ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:

ধামরাইয়ে অভাবের তাড়নায় বিক্রি করা সন্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিক্রিতে সহায়তা করায় রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ সাদিয়া বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

নবজাতককে কোথায়, কার কাছে বা কোন মানব পাচারের সদস্য অথবা নিঃসন্তানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে কিনা-এসব বিবেচনা করে পুলিশ সাদিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সাদিয়ার কাছ থেকে নবজাতককে কোথায় কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে এ ধরণের কোন তথ্য বের করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে প্রসূতি নাজমাকে বাটারখোলা গুচ্ছগ্রাম থেকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে সে নিজেও জানে না কোথায় কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে তার সন্তান। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গুচ্ছগ্রামে পৌছে দেয় পুলিশ। সে পুলিশকে জানিয়েছে, হাসপাতালের স্টাফ সাদিয়া ও রিয়াজ এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে বিক্রি করেছে তার নবজাতককে।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সন্তান বিক্রিতে সহায়তা করায় হাসপাতালের স্টাফ সাদিয়াকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাচ্চা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চলছে।

উপজেলার সূতিপাড়া বাটারখোলা গুচ্ছগ্রামের ভাড়াটিয়া নাজমা (২৮) ডাউটিয়া রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন স্থানীয় মহিলা মেম্বার আছিয়া বেগমের সহায়তায়। সেখানে রাতে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন তিনি। ওই নবজাতককে অভাবের তাড়নায় ৬০ হাজার টাকা পেয়ে বিক্রি করে দেন শুক্রবার সকালে। বিক্রিতে সহায়তা করেন ওই হাসপাতালের স্টাফ সাদিয়া ও তাঁর কথিত স্বামী একই হাসপাতালের মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট রিয়াজুল ইসলাম। রিয়াজুল ধামরাইয়ের বিলবাউটিয়া গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে। সাদিয়া নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

নাজমার স্বামী বাবুল হোসেন ছিলেন সাইকেল মেকার, বৃদ্ধ বাবা ও মা ছিলেন ইটভাটার শ্রমিক। তাদের উপার্জিত আয়েই চলতো ছয় সদস্যের সংসার। স্বামী, দুই সন্তান, বাবা ও মাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন বাটারখোলা গুচ্ছগ্রামে। নাজমার রয়েছে আট বছরের এক মেয়ে ও ৫ বছরের এক ছেলে।

তাদের রেখে স্বামী বাবুল হোসেন গত দুই মাস আগে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার সময় নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত পাঁচদিন আগে মারা যান তার বাবা আক্কাস আলী। এর সাত মাস আগে মারা যান তার মা। নিত্য অভাব আর প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নাজমা।

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2014 Amar News
Site Customized By Hasan Chowdhury